বাল্যবিবাহ রোধ

[ঘটনাঃ বেলা ২ টা। রসুলপুর গ্রামের করিম শেখ এর বাড়ি। করিম শেখের মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে। বাড়িতে কয়েকজন আত্নীয় স্বজন। বাড়ির এক পাশে করিম শেখকে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কি যেন বোঝাবার চেষ্টা করছে। করিম শেখ যেন কিছুই বুঝতে চাইছে না। অতপর শিক্ষক তার মোবাইল বের করে কাকে যেন ফোন করছে।]

শিক্ষকঃ     (এইউইও কে ফোনে) আসসালামু ওয়ালাইকুম স্যার।

এইউইওঃ     ওয়ালাইকুম আসসালাম, কি ব্যাপার ফরিদ স্যার?

শিক্ষকঃ     স্যার, আমার বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী, এবারের সমাপনী পরীক্ষার্থী গত দুই দিন বিদ্যালয়ে আসে না। আমি আজ হোম ভিজিট করতে এসে দেখি তাদের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছে। আমি জানতে পেলাম আমার সেই দশ বছর বয়সি ছাত্রীটিরই বিয়ের আয়োজন। আমি তার মা-বাবাকে অনেক বুঝিয়েছি, এমনি কি বাল্যবিবাহের শাস্তির কথাও বলেছি, কিন্তু তারা কিছুতেই এ বিয়ে বন্ধ করবে না। এখন আমি কি করতে পারি স্যার?

এইউইওঃ     আপনি ও বাড়িতেই থাকেন। আমি এখনি ইউএনও স্যারকে নিয়ে আসছি।

[বিয়ে বাড়িতে আয়োজন চলছে। সকলের মাঝে ব্যস্ততা।]
মেয়ের বাবাঃ    কি গো, আর কত দেরি তোমাদের? ওদিকে বরযাত্রী আসার সময় হয়ে এলো যে।

মেয়ের মাঃ    এই তো সব আয়োজন প্রায় শেষ।

[বরযাত্রীর আগমন এবং আসন ব্যস্ততা। একটু পরেই কাজীর আগমন]
কাজীঃ    মাইয়ার মা-বাপ কহানে গ্যালা? কোই এট্টু তাড়াতাড়ি করেন। আমার অনেক তাড়া। আইজ আমার দশখান বিয়া পড়াইতে অইবো।

[ইউএনও, এইউইও এবং পুলিশের আগমন। পুলিশ দেখে বর ও কাজী পালাতে উদ্যত। পুলিশের বাধা দান।]
ইউএনওঃ    (রাগান্বিতভাবে) মেয়ের মা-বাবা কোথায়? শুনছি তারা তাদের দশ বছরের নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছেন? এ বিয়ে বন্ধ করেন।

মেয়ের বাবাঃ    স্যার, কি করুম। আমরা গরীব মানুষ। সংসার চলে না। মেয়ে তো পরের ঘরে যাবেই। আমিও তাড়াতাড়ি বিয়া দিয়া দায়মুক্ত হোই।

মেয়ের মাঃ    আমাগো মাইয়ারে আমরা বিয়া দিমু। আফনে কওনের কিডা? আমার মাইয়ার খাওন-পরনের ভার কি আফনারা নেবেন? প্যাট চালাইবার পারি না বলেই তো মাইয়ার বিয়া দিত্যাছি। মাইয়াডা আমার খাইয়া পইরা সুখে থাকবার পারবো।

ইউএনওঃ    (কনেকে, নরম সুরে) এই যে মামনি, তুমি কি এ বিয়েতে রাজি আছো?

কনেঃ        (কাঁদতে কাঁদতে) স্যার, আমি বিয়া করুম না। আমি পড়তে চাই। বড় অইয়া চাকরি করবার চাই। নিজের পায়ে দাড়াবার চাই। আমার মা-বাবা আমারে জোর কইরা বিয়া দিবার চায়।

ইউএনওঃ    (পুলিশকে আদেশের সুরে) এই গ্রেফতার কর সবাইকে।

[পুলিশ ধরতে উদ্যত]
মেয়ের বাবাঃ    (হাত জোড় করে) আমাগো মাফ করেন স্যার। আমরা গরীব মানুষ।

কাজীঃ        অমন বিয়া কত্ত অইত্যাছে আইজকাল। জন্ম তারিখ পাল্টাইয়া অমন বিয়া কত্ত দিলাম।

ইউএনওঃ    (পুলিশকে আদেশের সুরে) এই এই নিয়ে যাও এদেরকে।

[পুলিশ কনের মা, বাবা, কাজী ও বরকে গ্রফতার করে প্রস্থান]

ইউএনওঃ    (দর্শকদের উদ্দেশ্যে) আপনারা জানেন বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অপরাধ। বাল্যবিবাহের কারনে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যু ঘটে থাকে। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাল্যবিবাহের কারনে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যায়। তাছাড়া সরকার মেয়েদের শিক্ষার জন্য অনেক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। শুনুন শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে।

এইউইওঃ    সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে নতুন বই দিচ্ছে। উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং সহ বিভিন্ন প্রকার কার্যক্রম চালু করেছে শিক্ষা বিস্তারের জন্য। আপনার মেয়েকে যদি শিক্ষা অর্জনের সুযোগ দেন তবে সে পড়াশোনা শেষে উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের ভরণ পোষণের দ্বয়িত্ব নিতে পারবে। তাই মেয়েদেরকে বোঝা মনে না করে তাদের লেখাপড়া শেখাতে হবে।

ইউএনওঃ    (সবাইকে) আসুন আমরা আজ থেকে প্রতীজ্ঞাবদ্ধ হোই। আমরা বাল্য বিবাহ রোধ করবো। আমাদের মেয়েদেরকে পূর্ণ শিক্ষার সুযোগ দিবো।
[সবাই একসাথে বলবে। পর্দা নামবে।]

সেপ্টম্বর ১৪, ২০১৫ খ্রিঃ
আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
পুলেরহাট, যশোর।

Advertisements